চীফ, রিপোর্টার আজিজুল হক 

কিশোরগঞ্জ শহরে মশার উপদ্রব এখন চরম আকার ধারণ করেছে। দিন-রাত মশার আক্রমণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সন্ধ্যা নামলেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় যেন মশার অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে পরিবেশ, যা জনজীবনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করছে এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব মশার বংশবিস্তারকে ত্বরান্বিত করছে। ফলে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বেড়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কার্যকর ও ধারাবাহিক মশা নিধন কার্যক্রমের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

সম্প্রতি জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জাঁকজমকপূর্ণভাবে মশা নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন খুব একটা দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। শহরের অধিকাংশ এলাকায় এখনো নিয়মিতভাবে মশা নিধনের ওষুধ ছিটানোর কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি।

শহরের বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “উদ্বোধনের দিন কিছুটা কার্যক্রম দেখা গেলেও এরপর আর কোনো উদ্যোগ নেই। প্রতিদিন মশার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে, অথচ সংশ্লিষ্টদের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই।”

এ বিষয়ে সম্মিলিত ছাত্র ঐক্য পরিষদ কিশোরগঞ্জের মুখপাত্র জগলুল হাসান চয়ন তার ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করে বলেন,

“মশা নিধন কার্যক্রমের নামে যা করা হয়েছে, তা মূলত লোক দেখানো উদ্যোগ। বাস্তবে সাধারণ মানুষ কোনো সুফল পাচ্ছে না। প্রশাসনের উচিত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা, নচেৎ জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, কেবল উদ্বোধন বা প্রচারণা দিয়ে জনদুর্ভোগ কমানো সম্ভব নয়। প্রয়োজন একটি সুসংগঠিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, যেখানে নিয়মিত ফগিং, লার্ভা ধ্বংস, ড্রেন পরিষ্কার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মতো কার্যক্রম সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি এসব কার্যক্রমের ওপর কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও জরুরি।

জনদাবি:

শহরবাসী দ্রুত মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার, নিয়মিত ওষুধ ছিটানো এবং স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা প্রশাসনের দায়িত্বশীল ভূমিকা ও বাস্তবমুখী উদ্যোগ প্রত্যাশা করছেন।