কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার একটি আবাসিক মহিলা মাদ্রাসায় ১০ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে পুলিশ অভিযুক্ত হিসেবে মাদ্রাসার পরিচালক সাইদুল রহমানকে (৫০) আটক করেছে। অসুস্থ শিশুটিকে বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় নয় মাস আগে ধর্মীয় শিক্ষার উদ্দেশ্যে শিশুটিকে উপজেলার জামিলাতুন নেছা আদর্শ মহিলা হাফিজিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়। সম্প্রতি ঈদুল ফিতরের ছুটিতে মেয়েকে বাড়িতে নিতে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থা দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন মা। শিশুটি জ্বরে আক্রান্ত ছিল এবং হাঁটাচলায় কষ্ট হচ্ছিল। প্রথমে বিষয়টি স্পষ্ট না হলেও পরে তার অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে শিশুটির শরীরে গুরুতর শারীরিক জটিলতার লক্ষণ পাওয়া গেছে। চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, বিলম্বিত চিকিৎসার কারণে তার শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে এবং শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে তাকে অক্সিজেন সহায়তায় রাখা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করেছেন, মাদ্রাসার পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট এক শিক্ষিকা তার মেয়ের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করেছেন। বিষয়টি গোপন রাখারও চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং ঘটনাটিকে ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে এবং ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।



