মোহাম্মদ সেলিম ​
জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া​

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার আওতাধীন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সেফপাড়ায় অনুমোদনবিহীন বহুতল ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম, প্রভাব খাটানো ও প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্সবিহীন একাধিক ডেভেলপার পৌরসভার কিছু অসাধু কর্মকর্তার ছত্রচ্ছায়ায় নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, ফলে পৌর এলাকার নির্মাণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।অভিযোগের পটভূমি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ,স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনুমোদনবিহীন একটি বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চলতে থাকায় এলাকাবাসী বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান। পরে অভিযোগ আকারে বিষয়টি পৌর প্রশাসকের কাছে উত্থাপন করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, নির্বাহী প্রকৌশলী কাউসার আহমেদ এবং টাউন প্লানার জান্নাতুল ফেরদৌস-এর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদে লাইসেন্সবিহীন ডেভেলপারদের একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে।অভিযোগ পাওয়ার পর পৌর প্রশাসক শরিফুল ইসলাম-এর দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট নির্মাণাধীন ভবনে ‘অননুমোদিত বিল্ডিং—কাজ বন্ধ’ উল্লেখ করে সাইনবোর্ড টানানো হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনিক নির্দেশনা সত্ত্বেও নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি; বরং আগের মতোই কাজ চলতে থাকে।নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নির্মাণ অব্যাহত,স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ডেভেলপার মুরাদ হোসেন ভূঁইয়া প্রকাশ্যে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্মাণাধীন ভবনের এক শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “ডেভেলপার প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে কাজ করার অনুমতি নিয়েছেন।” যদিও এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী ও টাউন প্লানার উভয়েই কোনো ধরনের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে—পৌরসভার আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও কীভাবে নির্মাণকাজ অব্যাহত থাকে? নির্দেশনা অমান্য করার পরও কেন সংশ্লিষ্ট ডেভেলপারের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।নিরাপত্তা ও নগর পরিকল্পনা নিয়ে শঙ্কা,সচেতন মহলের মতে, অনুমোদনহীন বহুতল ভবন নির্মাণ ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। যথাযথ নকশা, ফায়ার সেফটি, পার্কিং সুবিধা, সড়কের প্রস্থ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ভূমিকম্প সহনশীলতা নিশ্চিত না হলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে দ্রুত নগরায়নের ফলে পরিকল্পনাহীন নির্মাণ ভবিষ্যতে পৌর এলাকার অবকাঠামোগত ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে বলে মনে করছেন নগর পরিকল্পনা সংশ্লিষ্টরা।
গণমাধ্যম ও জনমতের প্রতিক্রিয়া,গণমাধ্যমকর্মীদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি। বরং অভিযোগ রয়েছে, তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে কিছু কর্মকর্তার অসৌজন্যমূলক আচরণের মুখোমুখি হতে হয়েছে সাংবাদিকদের। এতে প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি ও পরবর্তী করণীয়,স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে অননুমোদিত নির্মাণকাজ বন্ধ করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।এ বিষয়ে পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক লিখিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।নগর পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞদের মতে, জনস্বার্থে স্থানীয় প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও পৌর কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাই নিরাপদ ও পরিকল্পিত নগর গড়ে তুলতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।