ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খাটুরা কাজী বাড়ি এলাকায় সাংবাদিক কাজী রনি-র ওপর নৃশংস সশস্ত্র হামলার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, হামলার ঘটনায় অভিযুক্তরা নিজেদের পরিত্যক্ত ঘরে আগুন লাগিয়ে উল্টো বাদী পক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজানোর পাঁয়তারা করছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে সাংবাদিক কাজী রনি তার বাসা থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে একদল সন্ত্রাসী তার ওপর হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি কাজী নুর আলম, তার দুই ছেলে কাজী ইমন ও কাজী সাইমন এবং তাদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা একযোগে হত্যার উদ্দেশ্যে কাজী রনির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

হামলাকারীরা রামদা ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে সাংবাদিক কাজী রনির ডান হাতের শিরা কেটে যায়, হাত ও পা গুরুতরভাবে ভেঙে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বাঁচাতে গিয়ে আহত আরও দুজন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রনিকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা এক যুবককে রামদা দিয়ে মাথায় কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। তার মাথায় ১২টি সেলাই দিতে হয়েছে। এ সময় কাজী রনির আপন ছোট ভাই তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও নির্মমভাবে মারধর করে হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়।

বর্তমানে আহতরা ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গভীর রাতে আগুন, সন্দেহের তীর অভিযুক্তদের দিকে। এদিকে হামলার ঘটনার কয়েকদিন পর নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। অভিযোগ রয়েছে, গতকাল গভীর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে কাজী নুর আলমের ছেলে কাজী সাইমন তাদের একটি পরিত্যক্ত ছোট টিনের ঘরে আগুন লাগায়।

ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন কাজী রনির ভাগিনা সিয়াম। তার দাবি, আগুন লাগানোর সময় সাইমন ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে ছিল। সিফাত তাকে দেখে ফেললে সাইমন দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

পরে সিফাত জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে ২০-২৫ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এলাকায় আতঙ্ক, মুখ খুলতে ভয়। এ ঘটনায় এলাকার একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কাজী নুর আলম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তার ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা যদি প্রতিবাদ করি, আমাদেরও মেরে ফেলবে—এই ভয়ে কেউ সামনে আসতে চাই না।”

‘নিজেদের ঘরে আগুন, উল্টো মামলা দেওয়ার হুমকি’

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিজেদের পরিত্যক্ত ঘরে আগুন লাগিয়ে এখন উল্টো সাংবাদিক কাজী রনি ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, “একদিকে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে মানুষকে পঙ্গু করে দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে আবার নিজেরাই আগুন লাগিয়ে মামলা সাজানোর চেষ্টা চলছে—এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।”


এ ঘটনায় পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসী দ্রুত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

সচেতন মহলের মতে, সাংবাদিকের ওপর এমন হামলা ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ শুধু একটি ব্যক্তিগত বিরোধ নয়; এটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যও বড় উদ্বেগের বিষয়। তাই প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন তারা।