মোহাম্মদ সেলিম
জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ঘাটুরা এলাকায় পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক সাংবাদিকের ওপর পরিকল্পিত, নৃশংস ও বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘাটুরা কাজী বাড়িতে সংঘটিত এ ঘটনাকে ঘিরে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা, আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এটি কেবল পারিবারিক বিরোধ নয়, বরং পূর্বপরিকল্পিত হত্যাচেষ্টার ঘটনা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিক ও সার্ভেয়ার পেশায় যুক্ত কাজী রনি সকালে দৈনন্দিন কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় অতর্কিতভাবে একদল সশস্ত্র হামলাকারীর মুখোমুখি হন। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। হামলার ঘটনায় তার বড় ভাই কাজী নুর আলম, ভাতিজা কাজী ইমন ও কাজী সাইমন, শ্যালক রুবেল ডালিমসহ ১৫–২০ জন বহিরাগতকে দায়ী করা হয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে।পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এর আগেও ভুক্তভোগী একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে বুধবারের হামলাকে পূর্বের সব ঘটনার চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ ও নির্মম বলে দাবি করা হচ্ছে। হামলাকারীরা প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে এবং অভিযোগ রয়েছে—নিষ্ঠুরভাবে হাত ও পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়, যাতে তিনি স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে পড়েন। এতে তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে এবং ঘটনাস্থলে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকেন তিনি।ঘটনার সময় পরিস্থিতি থামাতে এগিয়ে এলে পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে কাজী হিরো, কাজী সরদার এবং কাজী মেরাজ গুরুতর আহত হন। বিশেষ করে কাজী মেরাজের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগায় তার অবস্থাও সংকটাপন্ন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।স্থানীয়রা জানান, হামলার সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কেউ এগিয়ে আসতে সাহস পাননি। পরে স্থানীয়দের উদ্যোগে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি এমন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। তারা অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সাংবাদিক মহলেও এ ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তী আপডেটে বিস্তারিত জানানো হবে।



