আসন সমঝোতা নিয়ে বিভ্রান্তি নয়, ঐক্যের পথেই ইসলামপন্থীদের ভবিষ্যৎ

ডেস্ক রিপোর্ট
— ডা. সিরাজুল ইসলাম সিরাজী,তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক মন্তব্যে ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে চলমান বিভ্রান্তি ও আলোচনা প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমার প্রিয় জামায়াতে ইসলামীর ভাইয়েরা— আপনারা হয়তো কারো কারো পোস্ট দেখে মনে করছেন, আসন সমঝোতায় পীর সাহেব চরমোনাই বাধা। কিন্তু আপনাদের কেন্দ্রীয় ও দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দের কাছে খোঁজ নিলে এই ধারণা সম্পূর্ণ পাল্টে যাবে।”
তিনি উল্লেখ করেন, পীর সাহেব চরমোনাই বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া লোভনীয় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে একবাক্স নীতির স্বার্থে বড় ত্যাগ স্বীকার করেছেন, যাতে ইসলামপন্থীদের ঐক্যের সম্ভাবনা নষ্ট না হয়। ডা. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আপনারা আলহামদুলিল্লাহ একটি বড় সংগঠন। কিন্তু কেউ কেউ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে এখনো ছোট দল হিসেবে দেখছেন— বাস্তবতা হলো, সংগঠনটি আর ছোট নেই।”
মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ জামায়াত ও চরমোনাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেখতে চায়, পাশাপাশি অন্যান্য ইসলামপন্থী দলগুলোকেও একই প্ল্যাটফর্মে দেখতে চায়। অতীত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ইসলামপন্থীরা ভোটের মাঠে বড় সাফল্য দেখাতে না পারলেও জামায়াতে ইসলামী সর্বোচ্চ ১৮টি আসন পেয়েছে এবং ২০০৮ সালে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ২টি আসন অর্জন করে।
ডা. সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সারা দেশে উল্লেখযোগ্য ভোট পেলেও আসনের হিসেবে সেই সাফল্য আসেনি। তাঁর মতে, এবার যদি একবাক্স নীতিতে সবাই এক হতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ভোটের মাঠে উল্লেখযোগ্য কিছু অর্জন সম্ভব হবে না। এর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “প্রশাসন ও মিডিয়ার সম্মিলিত আক্রমণ এককভাবে প্রতিহত করা সম্ভব নয়— দল যত শক্তিশালীই হোক না কেন।”
১৭ বছরের রাজনৈতিক বাস্তবতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “এই দীর্ঘ সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রশাসনের সামনে আমরা সবাই প্রায় অসহায় ছিলাম।” নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, প্রায় ৪০ বছর আগে হাফেজ্জী হুজুরের নির্বাচন ও খেলাফত আন্দোলনের নির্বাচনে তিনি পায়ে হেঁটে, চোঙ্গা হাতে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণার দায়িত্ব পালন করেছেন।
এই অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “এবার ইসলামপন্থীরা ঐক্যবদ্ধ না হলে জনগণ আমাদের গ্রহণ করবে না।” তিনি সকলের কাছে দোয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেন রব্বুল আলামীন একটি ইতিবাচক ফয়সালা কবুল করেন।
শেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ইনশাআল্লাহ সমঝোতা হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এখন পর্যন্ত কোনো দলের কেন্দ্রীয় নেতা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি। তাই স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বক্তব্যে যেন কেউ কষ্ট না পান বা কষ্ট না দেন— সে আহ্বানও জানান তিনি।আলহাজ্ব ডা. সিরাজুল ইসলাম সিরাজী,কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য ইসলামীআন্দোলন বাংলাদেশ



