চীফ: রিপোর্টার আজিজুল হক  জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য জোট নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন নানা আলোচনা ও প্রশ্ন উঠছে, ঠিক সেই প্রেক্ষাপটে দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বক্তব্যে এনসিপির অভ্যন্তরীণ অবস্থান ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের স্পষ্ট মত প্রকাশ করেছেন। সামান্তা শারমিন তার ফেসবুক পেইজে দেওয়া পোস্টে উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রেস কনফারেন্স থেকে তিনি জানতে পেরেছেন যে এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছে। তবে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের আত্মপ্রকাশের দিন জোটের মুখপাত্র ও এনসিপির আহ্বায়কের বক্তব্য অনুযায়ী এমন কোনো জোট হওয়ার কথা ছিল না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের অন্যতম অংশীদার রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ইতোমধ্যে এনসিপির বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে। এমনকি তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে না জানিয়ে এনসিপি আসন সমঝোতার দিকে এগিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে, যা জোট রাজনীতির স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সামান্তা শারমিন বলেন, “তৃতীয় শক্তি তৈরির উদ্যোগকে ব্যাহত করে এমন অবস্থান জাতীয় নাগরিক পার্টির মূলধারাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।” তবে একইসঙ্গে তিনি এনসিপির ঘোষিত রাজনৈতিক দর্শন ও দীর্ঘদিনের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “আমি এনসিপির এতদিনের সকল বক্তব্যকে ধারণ করি এবং তা স্বাগত জানাই।” তিনি আরও দাবি করেন, কিছু ব্যক্তির সিদ্ধান্ত দলের মূল আকাঙ্ক্ষা থেকে বিচ্যুতি তৈরি করেছে, বিশেষ করে কতিপয় আসনের বিনিময়ে ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত এনসিপির রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। পদত্যাগ প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে সামান্তা শারমিন বলেন, “আমি পদত্যাগ করার কোনো যৌক্তিকতা দেখছি না। কারণ আমি এনসিপির আনুষ্ঠানিক সকল বয়ান সাবস্ক্রাইব করি। কেউ কেউ বিচ্যুত হলেও দল হিসেবে এনসিপি সঠিক অবস্থানেই ছিল।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামান্তা শারমিনের এই বক্তব্য এনসিপির ভেতরে চলমান মতপার্থক্য ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। তৃতীয় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের যে প্রত্যাশা এনসিপিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল, তা ধরে রাখতে হলে দলটির ভেতরে ও বাইরে আরও স্পষ্টতা ও ঐক্য প্রয়োজন বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।