চীফ রিপোর্টার আজিজুল হক রবিবার সন্ধ্যায় :কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনে বিএনপি ঘোষিত প্রার্থী মোঃ মাজহারুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে গতকাল সন্ধ্যায় চার মনোনয়ন-বঞ্চিত নেতাসহ দলীয় নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। দীর্ঘদিন দলের জন্য কাজ করেও মনোনয়ন না পাওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।দলীয় অভ্যন্তরে বিরল এই দৃশ্যে চারজন শীর্ষ স্থানীয় নেতা একত্রিত হয়ে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন। তাঁরা হলেন: রেজাউল করিম চুন্নু — জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ (ভিপি সোহেল) — সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রুহুল হোসেন — জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম — বিএনপির সাবেক মনোনয়নপ্রত্যাশী ও  সিনিয়র নেতা সমাবেশ শেষে তারা রিকশায় করে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এতে কয়েকশত নেতাকর্মী অংশ নেন বলে জানা গেছে।'তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে' — অভিযোগ চার নেতার সমাবেশে বক্তারা বলেন, তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত না নিয়েই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যা দলীয় গণতন্ত্র ও সাংগঠনিক মর্যাদার পরিপন্থী।রেজাউল করিম চুন্নু বলেন,যে নেতারা দলের দুঃসময়ে রাজপথে ছিলেন, তাদের বাদ দিয়ে অযোগ্যভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে—এটি মেনে নেওয়া যায় না।"খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল বলেন,আমরা মনোনয়নের ভিক্ষুক নই, কিন্তু অন্যায় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোই আমাদের দায়িত্ব।" রুহুল হোসাইন তার বক্তব্যে বলেন । কিশোরগঞ্জ-১ আসনে তৃণমূলের প্রকৃত পছন্দ উপেক্ষা করে মনোনয়ন দেওয়া হলে নির্বাচনী মাঠ দুর্বল হয়ে যাবে।" কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা না করলে বিএনপি এখানে ভোটযুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাবে না।"অবস্থান: মনোনয়ন বাতিল—অথবা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি বিক্ষোভ করা নেতারা স্পষ্ট করে জানান, মনোনয়ন প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করা না হলে আন্দোলন চলবে এবং ধীরে ধীরে তা জেলা-ব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষণ স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একই দলে চার নেতার একই দাবিতে একত্রিত হওয়া কিশোরগঞ্জে বিরোধী দলের শক্তি-বিন্যাস এবং নির্বাচন-কৌশলে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে কেন্দ্রীয় বিএনপি এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য দেয়নি।