কিশোরগঞ্জ–৩ আসনে মনোনয়ন ঘিরে বিভ্রান্তি

করিমগঞ্জ প্রতিনিধি
নির্বাচনকালীন ইসলামী ও ডানপন্থী দলগুলোর মধ্যে যে সমঝোতা ও বোঝাপড়ার আলোচনা চলছে, তার প্রেক্ষাপটে কিশোরগঞ্জ–৩ (করিমগঞ্জ–তাড়াইল) আসনে একটি বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক কর্নেল (অব.) ডা. জেহাদ খান তাঁর নিজস্ব ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্টে দাবি করেন, তিনি “৮ দল” থেকে মনোনয়ন প্রাপ্ত বা সমর্থিত হয়েছেন। ওই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা ও প্রশ্নের জন্ম দেয়।
তবে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।এই প্রতিবেদক ইসলামী ঐক্যভুক্ত একটি দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা স্পষ্টভাবে জানান, এখন পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ–৩ আসনে কোনো দলের পক্ষ থেকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন বা সমর্থন ঘোষণা করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট নেতা জানান,
“আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলমান। এখনো কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে কনফার্ম করা হয়নি।”এরপরও দেখা যাচ্ছে, ডা. জেহাদ খানের উক্ত পোস্টকে কেন্দ্র করে তাঁর দলের বিভিন্ন নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন এবং বিষয়টিকে ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ হিসেবে উপস্থাপন করছেন, যা বাস্তব অবস্থার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন ঘনিয়ে আসার প্রাক্কালে এমন আগাম ঘোষণায় ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে এবং দলীয় সমঝোতার প্রক্রিয়াও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তারা মনে করেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে ব্যক্তিগত বা দলীয় প্রচার রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী।
এ বিষয়ে ডা. জেহাদ খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত তাঁর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। খবর ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘন্টাখানেক পরেই জিহাদ খানের আইডি থেকে পোস্টটা মুছে ফেলা হয়।
এদিকে স্থানীয় ভোটারদের একাংশ বলছেন, নির্বাচনের আগে এরকম বিভ্রান্তি-ঐক্যর ফাটল ধরাতেও পারে বলে অনেকের ধারণা স্পষ্ট ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় আছেন। তাদের ভাষায়, “ফেসবুক পোস্ট নয়, আমরা দলীয় সিদ্ধান্ত দেখতে চাই।”
সব মিলিয়ে কিশোরগঞ্জ–৩ আসনে মনোনয়ন নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। রাজনৈতিক দলগুলোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগ পর্যন্ত যেকোনো দাবি বা প্রচারকে অযাচিত ও অসম্পূর্ণ তথ্য হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।



