আখাউড়া উপজেলা প্রতিনিধি, সিজান সরকার ‎ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা–আখাউড়া) আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার পরপরই এলাকায় শুরু হয়েছে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ও অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, দলীয় মনোনয়ন না পেয়েও একটি মহল পরিকল্পিতভাবে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে স্থানীয় বিএনপির ভেতরে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে। ‎দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, বিএনপির হাইকমান্ড এই আসনে সাবেক সংসদ সদস্য ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মুশফিকুর রহমানকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে। অথচ মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা বিএনপির সদস্য আলহাজ কবির ভুঁইয়া মনোনয়ন না পাওয়ার পরও নিজেকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ‎অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২১ ডিসেম্বর কবির ভুঁইয়া মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে এলাকায় প্রচার করেন যে, তিনি বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় ঘোষিত তালিকা ও দলীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গে তার এই দাবির কোনো মিল পাওয়া যায়নি। ‎‎বিষয়টি আরও গুরুতর আকার নেয় বুধবার সন্ধ্যায়, যখন কবির ভুঁইয়ার অনুসারী হিসেবে পরিচিত উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি সম্পাদিত (এডিট করা) মনোনয়নপত্র প্রকাশ করেন। ওই পোস্টে দাবি করা হয়, কবির ভুঁইয়াকেই বিএনপি থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীরা এটিকে ‘ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ‎স্থানীয় বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই অপপ্রচার শুধু দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গই নয়, বরং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করার শামিল। তারা অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে দলীয় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে নির্বাচনী মাঠ দুর্বল করতে চাচ্ছে। ‎তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের দাবি, এ ধরনের বিভাজনের রাজনীতির সুযোগ নিয়ে আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আতাউর রহমান সুবিধা পেতে পারেন। তারা প্রশ্ন তুলছেন—মনোনয়ন না পেয়ে কেউ কি ইচ্ছাকৃতভাবে দলকে নির্বাচনী ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে? ‎আরও অভিযোগ উঠেছে, কবির ভুঁইয়ার অনুসারীদের একটি অংশের বিরুদ্ধে অতীতে মাদক বাণিজ্য ও দলীয় কোন্দলে জড়িত থাকার তথ্য দলীয় হাইকমান্ডের নজরে আসে, যা মনোনয়ন সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।‎ ‎তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, দ্রুত এই ভুয়া প্রচারণার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যবস্থা না নিলে কসবা–আখাউড়া এলাকায় বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।