আব্দুর রাজ্জাক বাপ্পী, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ ও শঙ্কার আবহ তৈরি হয়েছে। আন্দোলনের নামে দেশকে অস্থিতিশীল করে নির্বাচন বানচালের গভীর ষড়যন্ত্র চলছে—এমন আশঙ্কার কথা প্রকাশ করে সর্বস্তরের মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার  দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের মানবকল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত আলেম-ওলামাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু একটি নির্বাচন নয়, এটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা বিনষ্টের চেষ্টা চলছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। নির্বাচনকে ঘিরে অস্থিরতার রাজনীতিমির্জা ফখরুল বলেন, দেশের ভেতরে ও বাইরে কিছু গোষ্ঠী রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। বিভিন্ন গুজব, বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আন্দোলনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় নেতৃত্ব ও সচেতন নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জরুরি বলে তিনি মনে করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, “আমরা যেন আবার কোনো অন্ধকার সময়ের দিকে ফিরে না যাই। বিভেদ ও অনৈক্যই চক্রান্তকারীদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।” ধর্মীয় মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক বিভ্রান্তিআলেম-ওলামাদের উদ্দেশে বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব স্পষ্ট করেন, বিএনপি কখনোই ধর্মবিরোধী রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তিনি বলেন, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলমান এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ, কৃষিভিত্তিক সমাজ ও সংস্কৃতি রক্ষায় বিএনপির ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে। কুরআন ও সুন্নাহবিরোধী আইন প্রণয়নের অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি কুরআন-সুন্নাহর বাইরে কোনো আইন করতে দেবে না—এটি দলের নীতিগত অঙ্গীকার। অতীত অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যতের ডাকমির্জা ফখরুল তার বক্তব্যে অতীতের রাজনৈতিক দমন-পীড়নের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, একসময় আলেম-ওলামাদের জঙ্গি আখ্যা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে, মানুষকে মতপ্রকাশের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সেই সময় পেরিয়ে এখন নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ এসেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটি হয়তো আমার জীবনের শেষ নির্বাচন। বয়স হয়েছে, ভবিষ্যতে নির্বাচন করতে পারব কিনা জানি না। যদি অতীতে আপনাদের পাশে থাকতে পেরে থাকি, উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পেরে থাকি, তাহলে আপনাদের সহযোগিতা কামনা করি।” রাজনৈতিক বার্তার তাৎপর্যরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে একদিকে যেমন নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রশ্ন উঠে এসেছে, অন্যদিকে তেমনি ধর্মীয় নেতৃত্বের সঙ্গে রাজনৈতিক ঐক্যের বার্তাও স্পষ্ট হয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আলেম সমাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ—এই বার্তাও বিএনপি নেতৃত্ব দিতে চেয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। সভা শেষে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া করা হয়। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা। সার্বিকভাবে, এই মতবিনিময় সভা শুধু একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়—বরং আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে জাতীয় ঐক্য, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে।