নিশাচর সিরিজ

ধারাবাহিক উপন্যাস "নিখোঁজ ফাইল" পর্ব-১

সাদিয়া হোসাইন 

রাত সাড়ে বারোটা। ঢাকার পুরনো নীলক্ষেত এলাকায় আমি দাঁড়িয়ে ঘড়ির কাঁটার শব্দ শুনছিলাম। বৃষ্টি থেমেছে মাত্র কিছু মিনিট আগে, কিন্তু রাস্তায় জমে থাকা পানিতে নীল আলো কেঁপে উঠছিল। এই শহরে কিছু ঘটনা আলোতে আসে না—সবকিছু ঘটে ছায়ার ভেতর।আমার নাম রাহাত খান। পেশায় গোয়েন্দা। মানুষ খোঁজে তখনই, যখন পুলিশের দরজা বন্ধ হয়ে যায়।মোবাইল কেঁপে উঠল।—“স্যার… ফাইলটা নিখোঁজ,” কণ্ঠটা কাঁপছিল। নাম মাহিন।“কোন ফাইল?” আমি জিজ্ঞেস করলাম।“ডি–১৭… স্যার। যেটা কেউ জানত না।”ডি–১৭ মানে শুধু কাগজ নয়—এটা তিনটি খুন, একটি রাজনৈতিক নাম, আর এমন এক সত্য… যা বাইরে এলে অনেক কিছু পুড়ে যাবে।“তুমি এখন কোথায়?”মুহূর্তের নীরবতার পরে কণ্ঠটা কাঁপে,“আমি নিশ্চিত নই, স্যার… কেউ আমাকে ফলো করছে।”লাইন কেটে গেল।আমি পকেটে ফোন ঢুকিয়ে হাঁটা শুরু করলাম। মাথার ভেতর পুরনো কেসগুলো ঘুরছে। মাহিন ভয় পায় না সহজে। সে ভয় পেয়েছে মানে, ব্যাপারটা খারাপ।নীলক্ষেতের শেষ মাথায় একটা পুরনো লাইব্রেরি। দিনের বেলা ছাত্রদের ভিড়, রাত হলে শুধু ধুলো আর নীরবতা। মাহিন বলেছিল—কিছু হলে এখানে আসবে।ভেতরে ঢুকতেই কাগজ পোড়ার গন্ধ। আলো জ্বালাতেই দেখি—মেঝেতে ছড়িয়ে আছে ফাইলের ছেঁড়া কাগজ। কিন্তু ডি–১৭ নেই।হঠাৎ পেছন থেকে শব্দ।“খুঁজছেন কিছু?”আমি ঘুরে দাঁড়ালাম। কালো হুডি পরা এক লোক। মুখ দেখা যাচ্ছে না।“ফাইলটা কোথায়?”আমি সোজা প্রশ্ন করলাম।সে হেসে উঠল। হাসিটা অদ্ভুত ঠান্ডা।“ফাইল না, রাহাত ভাই—আপনি নিজেই এখন ফাইল।”পরের মুহূর্তে আলো নিভে গেল।অন্ধকারে শুধু একটা বাক্য ভেসে এলো—“এই কেসটা ছেড়ে দিন। নাহলে মাহিনের পরের নামটা আপনার।”আমি দাঁড়িয়ে রইলাম। ভয় পাইনি। কারণ আমি জানি—যে হুমকি দেয়, সে কোথাও না কোথাও ভুল করে।আর সেই ভুলটাই আমি খুঁজি।চলবে…