কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলার প্রবেশদ্বার এবং অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত শিল্পাঞ্চল আল্লারদর্গা। যেখানে গড়ে উঠেছে নাসির টোব্যাকোসহ একাধিক বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন হাজার হাজার শ্রমিক, কর্মকর্তা আর ব্যবসায়ীর পদচারণায় মুখর থাকে এই এলাকা। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ জনপদের প্রধান সড়কটি এখন এলাকাবাসীর জন্য এক দুর্ভোগের কারণ 

সরেজমিনে দেখা যায়, আল্লারদর্গা হাইস্কুল থেকে নাসির টোব্যাকো পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কটি দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সংস্কারহীন। এক সময়ের পিচ-ঢালা রাস্তাটি বর্তমানে হেরিংবোন

 ( ইটের রাস্তা) পরিনত হয়েছে ,সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দে । শুকনো মৌসুমে যানবাহনের চাকায় ওড়া ধুলোর মেঘে অন্ধকার হয়ে থাকে পুরো এলাকা। আর বর্ষা নামলেই ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে হাঁটু সমান পানি আর কাদা-পানির নরকযন্ত্রণায় ভোগেন পথচারীরা।

শিল্পাঞ্চল হওয়ার কারণে এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার শ্রমিক যাতায়াত করেন। বাতাসে উড়তে থাকা প্রচণ্ড ধূলিকণার কারণে এলাকায় শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি ও ফুসফুসের জটিলতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। স্থানীয় এক শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা পেটের দায়ে কাজে আসি, কিন্তু ধুলো আর নোংরা পানির দুর্গন্ধে এখন শরীর চলেনা। কেউ দেখার নেই আমাদের।" থমকে আছে এলাকার অর্থনীতি

কুষ্টিয়া থেকে প্রাগপুর ও মহিষকুন্ডি জাতীয় সড়কের সংযোগকারী এই রাস্তাটি সরু ও ভাঙাচোরা হওয়ায় সারাদিন লেগেই থাকে তীব্র যানজট। এর ফলে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলে যেমন বিঘ্ন ঘটছে, তেমনি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে। পচা পানির দুর্গন্ধ আর যত্রতত্র জলাবদ্ধতা পুরো এলাকার পরিবেশ বিষিয়ে তুলেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত সরকারের সময় বারবার দাবি জানালেও কোনো কাজ হয়নি। এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। অবৈধ দখল আর অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণেই সমস্যাটি আরও প্রকট হয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এলাকাবাসীর দাবি এখন একটাই—কেবল দায়সারা সংস্কার নয়, বরং রাস্তার দুই পাশের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে একটি আধুনিক সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক। এখন সবার নজর কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য রেজা আহামেদ বাচ্চু মোল্লার দিকে।দৌলতপুরের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে এবং শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন—এমনই প্রত্যাশা আল্লারদর্গাবাসীর।