বিশেষ প্রতিনিধি করিমগঞ্জ থেকে সম্পদ বৃদ্ধি, নিয়োগ বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে এলাকাজুড়ে প্রশ্ন। দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর পর কিশোরগঞ্জ-৩ (তাড়াইল–করিমগঞ্জ) আসনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। ক্ষমতার পালাবদলের পর সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ সামনে আনছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উন্নয়নের চেয়ে ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধিই তাঁর দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য ছিল—এমন অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। সম্পদ বৃদ্ধির হিসাব নিয়ে প্রশ্ন এলাকাবাসীর দাবি, ২০০৮ সালের হলফনামা অনুযায়ী মুজিবুল হক চুন্নুর ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৪ লাখ টাকা। পরবর্তী দেড় দশকে সেই সম্পদের পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়ে ৭ কোটি টাকার বেশি হয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের প্রশ্ন—এই বিপুল সম্পদের উৎস কী এবং কোন খাতে এ আয় হয়েছে, সে বিষয়ে জনসম্মুখে স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘিরে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ কাজলা আলিম মাদরাসায় দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর সভাপতির দায়িত্বে থাকার সময় নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র ও শিক্ষক মহলের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে সেখানে ২০টির বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়, যেখানে মেধার চেয়ে আর্থিক লেনদেনই মুখ্য ছিল বলে অভিযোগ। এসব নিয়োগের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে—এমন দাবিও তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মুজিবুল হক চুন্নুর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরিবারের প্রভাব ও সংঘাতের স্মৃতি ক্ষমতাকালীন সময়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রভাব বিস্তার নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, রাজনৈতিক বিরোধিতা দমন ও ভোটকেন্দ্রিক সহিংসতায় একাধিকবার উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। অতীতে একটি নির্বাচনী সহিংসতায় তাঁর এক ভাই নিহত হওয়ার ঘটনাও স্থানীয়ভাবে আলোচিত, যা ওই সময়কার রাজনৈতিক উত্তেজনার মাত্রা তুলে ধরে। পদচ্যুতি ও আইনি পদক্ষেপের দাবি জাতীয় পার্টির মহাসচিব পদ থেকে ইতোমধ্যে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু পদচ্যুতি যথেষ্ট নয়। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত, অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধান এবং নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। রাজনৈতিক বার্তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুজিবুল হক চুন্নুকে ঘিরে ওঠা এই বিতর্ক দেশের রাজনীতিতে একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়—জনগণের আস্থা ও ভোটের অপব্যবহার করে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। সময়মতো জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে জনরোষের মুখে পড়তেই হয়।