রাজনৈতিক বিশ্লেষণ,চীফ রিপোর্টার আজিজুল হক  আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ আসন ঢাকা–১৭ (গুলশান–বনানী) ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নির্বাচনী আসন হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় নির্বাচনী প্রস্তুতি ও সাংগঠনিক সমন্বয়কে আরও সুসংহত করতে প্রধান সমন্বয়কারী ও প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সম্মানিত সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব আবদুস সালাম। রাজনীতিতে অভিজ্ঞতা, মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস এবং দলীয় শৃঙ্খলার প্রতি তার সুদৃঢ় অবস্থান—সব মিলিয়ে এই দায়িত্ব অর্পণকে দলীয় কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কেন আবদুস সালাম-ঢাকা–১৭ আসনটি কেবল একটি নির্বাচনী এলাকা নয়; এটি বিএনপির নীতিনির্ধারণী রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পর্যবেক্ষণের দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। গুলশান–বনানীর মতো অভিজাত ও বহুমাত্রিক সামাজিক কাঠামোর এলাকায় নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা চালাতে প্রয়োজন অভিজ্ঞ, গ্রহণযোগ্য ও আস্থাভাজন নেতৃত্ব। জনাব আবদুস সালাম সেই অর্থেই একটি কৌশলগত নির্বাচন। তিনি একদিকে যেমন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিনিধিত্ব করেন, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সক্ষম। বিএনপির ভেতরে এবং বাইরে—দুই পরিসরেই তার গ্রহণযোগ্যতা এই আসনে নির্বাচনী সমন্বয়কে শক্ত ভিত দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় তার ভূমিকা- প্রধান সমন্বয়কারী ও প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে আবদুস সালামের দায়িত্ব হবে—নির্বাচনী প্রচারণার সার্বিক সমন্বয় কেন্দ্রভিত্তিক সংগঠন শক্তিশালী করা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো নির্বাচনী আইন ও বিধি মেনে এজেন্ট নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ যেকোনো অনিয়ম মোকাবেলায় দ্রুত সাংগঠনিক প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করা,বিশেষ করে ঢাকা–১৭-এর মতো সংবেদনশীল আসনে নির্বাচন পরিচালনায় তার অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সালাম সাহেবের বক্তব্য-দায়িত্ব গ্রহণ প্রসঙ্গে জনাব আবদুস সালাম বলেন—“বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের উপর অর্পিত এই দায়িত্বকে আমি ব্যক্তিগত সম্মান নয়, বরং জাতীয় দায়িত্ব হিসেবে দেখছি। ঢাকা–১৭ আসনে গণতন্ত্রকামী মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায় বাস্তবায়নে কাজ করব।” তিনি আরও বলেন—এই আসনে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়—বিজয়ী হবে গণতন্ত্র, বিজয়ী হবে জনগণ। দলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।” রাজনৈতিক তাৎপর্য-বিশ্লেষকদের মতে, আবদুস সালামের এই নিয়োগ বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতির একটি বার্তাবাহী সিদ্ধান্ত। এটি একদিকে দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্যকে শক্তিশালী করবে, অন্যদিকে ভোটারদের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা দেবে—বিএনপি এই নির্বাচনে কৌশলগতভাবে সুসংগঠিত ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। সব মিলিয়ে ঢাকা–১৭ আসনে এই নতুন নেতৃত্ব ও সমন্বয় বিএনপির নির্বাচনী রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে।