কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা এখন খাদের কিনারায়। ধারণক্ষমতার তিনগুণেরও বেশি রোগীর চাপে ভেঙে পড়ার উপক্রম এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় চিকিৎসা কেন্দ্রটি। ২৫০ শয্যার বিপরীতে বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন প্রায় ৭৭৭ জন রোগী। শয্যা না পেয়ে ওয়ার্ডের মেঝেতে, বারান্দায় কিংবা যত্রতত্র চাদর বিছিয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন অসহায় সাধারণ মানুষ। হাসপাতালটিতে কেবল রোগীর চাপই নয়, তীব্র জনবল সংকটও সেবা কার্যক্রমকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে:চিকিৎসক প্রথম শ্রেণির ৮০টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৪২ জন।সহকারী সার্জন ১৬টি পদের সবগুলোই বর্তমানে শূন্য।জরুরি বিভাগ ৮ জনের বদলে সেবা দিচ্ছেন মাত্র ৪ জন চিকিৎসক,চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ৪৭ জন থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ৭ জন। ফলে হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলার অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম জানান, সরকারিভাবে ওষুধের বরাদ্দ আসে ২৫০ শয্যার হিসাব অনুযায়ী। কিন্তু রোগী ভর্তি থাকে ৮০০ থেকে ৯০০ জন। ফলে ওষুধের সরবরাহ প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে জলাতঙ্ক ও ইপিআই টিকার সংকটে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। "প্রতিদিন গড়ে ৮০০ থেকে ৯০০ রোগী ভর্তি থাকে। এত বিশাল সংখ্যক মানুষের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আমাদের নার্স ও চিকিৎসকদের। ফরিদা ইয়াসমিন, নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট,

সরেজমিনে দেখা যায়, তিল ধারণের জায়গা নেই হাসপাতালটিতে। লোকবল সংকটের কারণে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম লাটে উঠেছে। চিকিৎসকের অভাবে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন না। সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত এই হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা না হলে এই অঞ্চলের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে।