রাজনীতি বা ক্ষমতার মোহ ছাড়াই শুধু সততা, জবাবদিহিতা ও সদিচ্ছা দিয়ে যে সমাজ ও সিস্টেমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমদুল্লাহ এবং ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। একদিকে জনগণের দানে বিপুল পরিমাণ ইফতার বিতরণ, অন্যদিকে হজ ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী সাফল্য এনে দেশবাসীর প্রশংসায় ভাসছেন এই দুই ব্যক্তিত্ব।
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের বিশাল কর্মযজ্ঞ
অভাবী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ঘরে ঘরে ২৩৩ মেট্রিক টন ইফতারসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছে শায়খ আহমদুল্লাহ পরিচালিত 'আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন'। সম্পূর্ণ জনগণের অনুদানে পরিচালিত এই বিশাল কর্মযজ্ঞ প্রমাণ করেছে, মানুষের বিশ্বাস ও স্বচ্ছতা থাকলে বড় বড় উদ্যোগ সফল করা সম্ভব। এর জন্য কোনো জনপ্রতিনিধি বা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকার প্রয়োজন নেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সময় ধর্ম উপদেষ্টা হিসেবে প্রথম শায়খ আহমদুল্লাহর নামই বিবেচনা করা হয়েছিল। কিন্তু পদের প্রতি নির্মোহ এই স্কলার নিজে দায়িত্ব না নিয়ে তার উস্তাদ এবং দেশের অন্যতম সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিত্ব ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন।
হজ ব্যবস্থাপনায় অভাবনীয় সাফল্য ও রিফান্ড
ড. খালিদ হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ১৮ মাসে হজ ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। গত ১০ বছরের ইতিহাসে এবারই দেশবাসী সবচেয়ে কম খরচে হজ করার সুযোগ পেয়েছেন।
সবচেয়ে বড় চমক ছিল হজের পর উদ্বৃত্ত অর্থের স্বচ্ছ হিসাব। জানা গেছে, হজ ব্যবস্থাপনার পর বেঁচে যাওয়া ৯ কোটি টাকা সরকার হাজিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রিফান্ড (ফেরত) করেছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। বিগত বছরগুলোতে যেখানে এজেন্সির প্রতারণা, এয়ারপোর্টে হাজিদের ভোগান্তি আর সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা, সেখানে এবার কোনো অনিয়ম বা ভোগান্তির অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ
শুধু হজ ব্যবস্থাপনাই নয়, ড. খালিদ হোসেনের মেয়াদে আরও বেশ কিছু যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে:
ইমামদের মর্যাদা বৃদ্ধি: দেশের সম্মানিত ইমামদের সরকারি ৯ম গ্রেডের সমমর্যাদা সম্পন্ন কর্মকর্তা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা: গত ১৮ মাসে দেশে একটি মন্দির বা পূজামণ্ডপেও হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত বা সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হলে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। এই কড়া নির্দেশনার ফলেই দেশে চমৎকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় ছিল।
বিশ্লেষকদের মত:
সাধারণ মানুষ ও বিশ্লেষকদের মতে, ড. খালিদ হোসেন এবং শায়খ আহমদুল্লাহ প্রমাণ করেছেন—সততা, যোগ্যতা ও পরিশুদ্ধ নিয়ত থাকলে যেকোনো খাতেই বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। তথাকথিত শিক্ষিত দুর্নীতিবাজদের চেয়ে সমাজের এই সহজ-সরল ও নীতিবান মানুষগুলোই দেশের জন্য অনেক বেশি কার্যকর।
দেশের সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দুই ব্যক্তিত্বের নিঃস্বার্থ সেবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও স্যালুট জানাচ্ছেন।
